পোস্টগুলি

হনুমান চালীসা

ছবি
  দোহা (২টি) শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি । বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দায়ক ফলচারি ॥ ( গুরুজনদের চরণের ধুলিতে নিজের মনকে পবিত্র করে রঘুবীরের (রামের) বিশুদ্ধ গৌরব বর্ণনা করছি, যা ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ প্রদান করে।) বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার । বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥ ( আমি নিজেকে বুদ্ধিহীন মনে করে পবনপুত্র হনুমানের স্মরণ করছি। তিনি যেন আমায় বল, বুদ্ধি, বিদ্যা দেন এবং সব দুঃখ ও দোষ দূর করেন।) ৪০টি চৌপাই ও বাংলা অনুবাদ: জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর ॥ ১ ॥  জ্ঞান ও গুণের সাগর হনুমান, তিন লোকের বিখ্যাত কাপীরাজ তোমায় প্রণাম। রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা ॥ ২ ॥  রামের দূত, অপরিসীম শক্তির ধারক, অঞ্জনার পুত্র ও পবনদেবের সন্তান। মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি ॥ ৩ ॥ মহাবীর, বজ্রকায়, মন্দবুদ্ধি দূরকারী ও সদবুদ্ধির সহচর। কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা ॥ ৪ ॥  সোনার মত দীপ্ত বর্ণ, শোভন পোশাক, কানে কুন্ডল ও কোঁকড়ানো চুল। হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে...

ভগবান

 ভগবান... তিনি কি সত্যিই আছেন? আমরা সবাই কোনও না কোনও সময় এই প্রশ্নটা করেছি। কেউ খুব কষ্টে পড়ে বলেছে — “যদি ভগবান থাকতেন, তবে আমার সঙ্গে এটা হতো না!” আবার কেউ গভীর প্রার্থনায় ডুবে থেকে অনুভব করেছে — “একটা অদৃশ্য শক্তি যেন আমায় বাঁচিয়ে দিলো!” তাহলে কি সত্যিই ভগবান আছেন? আজ একটা গল্প শোনাই... একটা গ্রামে ছিল এক ছোট ছেলে। নাম রাহুল। সে ছিল খুব কৌতূহলী। একদিন সে তার ঠাকুরদার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল — "ঠাকুরদা, ভগবান কি সত্যি আছে?" ঠাকুরদা মুচকি হেসে বলল — "তুই নিজেই উত্তর খুঁজে পাবি, একদিন।" সময় কেটে গেল। রাহুল বড় হলো। সে পড়াশোনায় ভালো, স্বপ্ন ছিল অনেক বড় কিছু হওয়ার। কিন্তু হঠাৎ একদিন... তার বাবা এক্সিডেন্টে মারা গেল। সব কিছু যেন থমকে গেল। সংসারে অভাব, মায়ের চোখে শুধুই জল। রাহুল তাকিয়ে রইল আকাশের দিকে... আর বলল — "ভগবান থাকলে কি এমন হতো? কেন নিলে আমার বাবাকে?" এরপর একদিন, রাহুল খুব হতাশ হয়ে রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ এক বৃদ্ধ লোক এসে বলল — "তুই হেরে গেলি? তোর মা তো এখনো লড়ছে… তুই পারবি না?" রাহুল চমকে গ...

ভগবান কি সত্যিই আছেন?

  "ভগবান সত্যিই কি থাকেন?" — এই প্রশ্নটি বহু যুগ ধরে মানুষের মনকে আন্দোলিত করেছে। এই বিষয়ে উত্তর নির্ভর করে আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাবছেন: আস্তিক (বিশ্বাসী) , নাস্তিক (অবিশ্বাসী) , অথবা অজ্ঞেয়বাদী (যিনি নিশ্চিত নন) । আস্থিকের দৃষ্টিভঙ্গি: আস্তিকরা বিশ্বাস করেন ভগবান আছেন — তিনি হয়তো নিরাকার (যেমন ব্রহ্ম), বা সাকার (যেমন কৃষ্ণ, শিব, দুর্গা)। তাদের যুক্তি: বিশ্বের বিস্ময়কর সৃষ্টি — এই বিশাল জগত, সূর্য-গ্রহ-নক্ষত্রের জটিলতা, জীবনের সূক্ষ্মতা — সবই নাকি ঈশ্বরের সৃষ্টির প্রমাণ। ধর্মীয় অভিজ্ঞতা — বহু সাধু-সন্ত, ভক্তদের জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব হয়েছে। শাস্ত্রের বাণী — গীতা, উপনিষদ, কুরআন, বাইবেল ইত্যাদি গ্রন্থে ঈশ্বরের অস্তিত্বের বর্ণনা আছে। নাস্তিকের দৃষ্টিভঙ্গি: নাস্তিকরা বিশ্বাস করেন না যে ঈশ্বর আছেন। তাদের যুক্তি: বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি — তারা বলেন জগত চলছে প্রকৃতির নিয়মে, ঈশ্বর ছাড়াও সব কিছু ব্যাখ্যা করা যায়। দুঃখ ও অন্যায় — যদি ঈশ্বর থাকেন, তাহলে পৃথিবীতে এত দুঃখ, যুদ্ধ, রোগ কেন? কোন প্রমাণ নেই — ঈশ্বরের অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভা...

একাদশী সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা

  একাদশী কী? একাদশী শব্দটির অর্থ হলো "একাদশ" অর্থাৎ চন্দ্র মাসের ১১তম তিথি। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি মাসে দুটি একাদশী হয়—একটি শুক্লপক্ষের এবং একটি কৃষ্ণপক্ষের ।  একাদশীর উৎপত্তি (উৎপত্তি কাহিনী) একাদশীর উৎপত্তি সম্পর্কে একটি প্রাচীন কাহিনী "পদ্ম পুরাণ" ও "ভবিষ্য পুরাণে" পাওয়া যায়। উৎপত্তি কাহিনী : প্রাচীনকালে মুর দানব নামে এক অসুর ছিল, যে স্বর্গ, মর্ত্য এবং পাতাল দখল করতে চেয়েছিল। দেবতারা পরাজিত হয়ে বিষ্ণু ভগবানের শরণাপন্ন হন। ভগবান বিষ্ণু মুর দানবকে বধ করতে গেলে, একসময় বিশ্রাম নিতে একটি গুহায় প্রবেশ করেন। তখন মুর দানব তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রমণ করতে আসে। সেই সময় ভগবানের দেহ থেকে এক উজ্জ্বল রমণী আবির্ভূত হন, যিনি মুর দানবকে ধ্বংস করেন। যখন ভগবান বিষ্ণু জেগে ওঠেন এবং সব কিছু জানতে পারেন, তখন তিনি সেই মহাশক্তিকে আশীর্বাদ করে বলেন: "তুমি আমার শক্তির এক অংশ, আজ থেকে তোমার নাম হবে একাদশী। যে ব্যক্তি এই দিনে উপবাস পালন করবে, সে পাপমুক্ত হবে এবং আমার ধামে যাবে।" কেন একাদশী পালন করা হয়? শাস্ত্র মতে একাদশী ব্রত পালন করলে...

বুদ্ধ অবতার

ছবি
  বুদ্ধ অবতার (Buddha Avatar) – নবম অবতার যুগ : কলিযুগের শুরু রূপ : গৌতম বুদ্ধ লক্ষ্য : হিংসা ও কুসংস্কারের বিপরীতে করুণা ও জ্ঞানের প্রচার পুরাণ অনুযায়ী কাহিনী : গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন লুম্বিনীতে , রাজা শুদ্ধোধনের পুত্র হিসেবে। রাজপ্রাসাদে বিলাসে বড় হলেও তিনি দুঃখ, জরা ও মৃত্যুর কথা শুনে মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগান। সব কিছু ত্যাগ করে তপস্যায় লিপ্ত হন এবং বোধিবৃক্ষের নীচে ধ্যান করে জ্ঞানপ্রাপ্তি লাভ করেন। তিনি চারটি মহাসত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ প্রচার করেন। হিন্দু মতে, বিষ্ণু এই রূপে অবতীর্ণ হয়ে হিংসাত্মক যজ্ঞ ও পশুবলি বন্ধ করেন, মানুষকে করুণা ও অহিংসার পথ দেখান। বুদ্ধ অবতারের শিক্ষা : আত্মজ্ঞানে মুক্তি অহিংসা, করুণা, সংযম ও মধ্যপথ বাহ্যিক আচার নয়, অন্তরের পবিত্রতা বড়

পরশুরাম অবতার

ছবি
  পরশুরাম অবতার (Parashurama Avatar) – ষষ্ঠ অবতার যুগ : ত্রেতাযুগ রূপ : অস্ত্রধারী ব্রাহ্মণ লক্ষ্য : অন্যায় ক্ষত্রিয়দের দমন করা এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা পুরাণ অনুযায়ী কাহিনী : জমদগ্নি মুনির ছেলে পরশুরাম ছিলেন অত্যন্ত বলবান, শাস্ত্র ও অস্ত্রদক্ষ। তিনি শিবের কাছ থেকে পরশু (কুড়াল) লাভ করেন। সেই সময় ক্ষত্রিয় রাজারা জনগণের উপর অত্যাচার শুরু করে। একদিন রাজা কার্তবীর্য অর্জুন পরশুরামের পিতাকে হত্যা করেন। প্রতিশোধস্বরূপ পরশুরাম ২১ বার পৃথিবী ঘুরে সকল দুরাচারী ক্ষত্রিয়দের হত্যা করেন। পরবর্তীতে তিনি হিংসা ত্যাগ করেন এবং শাস্ত্রচর্চা ও তপস্যায় মনোনিবেশ করেন। মহাভারতে তিনি ভীষ্ম, দ্রোণ ও কর্ণের অস্ত্রগুরু ছিলেন। পরশুরাম অবতারের গুরুত্ব : অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের হাতিয়ার ব্রাহ্মণ হয়েও ক্ষত্রিয়দের কাজ করা মানে – ধর্ম রক্ষা জাতির ঊর্ধ্বে কুপ্রথা দমনে প্রয়োজন কঠোরতা

বামন অবতার

ছবি
  বামন অবতার (Vamana Avatar) – পঞ্চম অবতার যুগ : ত্রেতাযুগ রূপ : বামন (বাম বয়সী ব্রাহ্মণ বালক) লক্ষ্য : অহঙ্কারী রাজা বলির অহং বিনাশ এবং দেবতাদের অধিকার ফিরিয়ে আনা পুরাণ অনুযায়ী কাহিনী : রাজা বলি ছিলেন একজন মহাদানশীল এবং বলবান অসুর রাজা। তিনি স্বর্গলোক পর্যন্ত জয় করে ফেলেছিলেন। দেবতারা তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলেন। তখন বিষ্ণু বামনরূপে এক বালক ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে বলির যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হন। বলি বলেন, “তুমি যা চাও, আমি দান করব।” বামন বলেন: “আমাকে তিন পা জমি দিন।” বলি হাসি মুখে রাজি হন। তখন বিষ্ণু তাঁর রূপ বাড়াতে থাকেন – প্রথম পা দিয়ে পৃথিবী, দ্বিতীয় পা দিয়ে স্বর্গ জয় করেন। তৃতীয় পা রাখার জায়গা না থাকায় বলি নিজের মাথা এগিয়ে দেন। ভগবান খুশি হয়ে বলিকে আশীর্বাদ দেন – পাতাল রাজ্যের রাজা হবার এবং একাদশী দিনে তাঁকে পূজা করা হবে। বামন অবতারের শিক্ষা : বিনয় ও কৌশলে অন্যায় শক্তিকে পরাজিত করা যায় অহংকার পতনের মূল কারণ বলিদান ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরকে জয় করা যায়