হনুমান চালীসা

 

দোহা (২টি)

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ।
বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দায়ক ফলচারি ॥

( গুরুজনদের চরণের ধুলিতে নিজের মনকে পবিত্র করে রঘুবীরের (রামের) বিশুদ্ধ গৌরব বর্ণনা করছি, যা ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ প্রদান করে।)

বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥

( আমি নিজেকে বুদ্ধিহীন মনে করে পবনপুত্র হনুমানের স্মরণ করছি। তিনি যেন আমায় বল, বুদ্ধি, বিদ্যা দেন এবং সব দুঃখ ও দোষ দূর করেন।)

৪০টি চৌপাই ও বাংলা অনুবাদ:

জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপিস তিহু লোক উজাগর ॥ ১ ॥
 জ্ঞান ও গুণের সাগর হনুমান, তিন লোকের বিখ্যাত কাপীরাজ তোমায় প্রণাম।

রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা ॥ ২ ॥
 রামের দূত, অপরিসীম শক্তির ধারক, অঞ্জনার পুত্র ও পবনদেবের সন্তান।

মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি ॥ ৩ ॥
মহাবীর, বজ্রকায়, মন্দবুদ্ধি দূরকারী ও সদবুদ্ধির সহচর।

কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা।
কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা ॥ ৪ ॥
 সোনার মত দীপ্ত বর্ণ, শোভন পোশাক, কানে কুন্ডল ও কোঁকড়ানো চুল।

হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।
কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে ॥ ৫ ॥
 হাতে বজ্র ও পতাকা, কাঁধে মুণ্ড মালা।

শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন।
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন ॥ ৬ ॥
 শিবের অংশ, কেশরীর পুত্র, এমন তেজ যার বন্দনা বিশ্ব করে।

বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর ।
রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ ৭ ॥
বিদ্বান, গুণবান, চতুর, রামের কাজে সদা ব্যস্ত।

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া ।
রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥ ৮॥
 রামচরিত শুনতে ভালোবাসে, মন সদা রাম, লক্ষ্মণ ও সীতাতে নিবিষ্ট।

সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা ।
বিকট রূপধরি লংক জরাবা ॥ ৯ ॥
 সূক্ষ্ম রূপে সীতাকে দেখা, আর ভয়ংকর রূপে লঙ্কা জ্বালিয়ে ধ্বংস।

ভীম রূপধরি অসুর সংহারে ।
রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে ॥ ১০ ॥
 ভয়ংকর রূপে অসুর নিধন, রামের কাজ করেন নিষ্ঠা সহকারে।

লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে ।
শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে ॥ ১১ ॥
 সঞ্জীবনী নিয়ে লক্ষ্মণকে বাঁচিয়ে তুললেন, রঘুবীর আনন্দে তাঁকে বুকে টেনে নিলেন।

রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী ।
তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি ॥ ১২ ॥
 রঘুনাথ তোমার অনেক প্রশংসা করলেন – তুমি ভরত সম প্রিয় ভাই।

সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ ।
অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ ॥ ১৩ ॥
 হাজার হাজার মুখে তোমার যশ গাওয়া যায় – এই বলে রাম তোমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা ।
নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ ১৪ ॥
 সনকাদি, ব্রহ্মা, নারদ, সরস্বতী, শেষ নাগ তোমার গুণগান করেন।

য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে ।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥ ১৫ ॥
যম, কুবের, দিকের রক্ষকরা পর্যন্ত তোমার গুণের পরিমাপ দিতে অক্ষম।

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা ।
রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥ ১৬ ॥
 তুমি সুগ্রীবকে রামের সঙ্গে মিলিয়ে রাজপদ লাভ করালেন।

তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা ।
লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥ ১৭ ॥
বিভীষণ তোমার পরামর্শ মানলেন, ফলস্বরূপ লঙ্কার রাজা হলেন।

য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ॥ ১৮ ॥
 সূর্য যিনি হাজার যোজন দূরে – তুমি তাঁকে মিষ্টি ফল ভেবে গিলে ফেললে।

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী ।
জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী ॥ ১৯ ॥
 রামের আংটি মুখে নিয়ে তুমি সমুদ্র পার হলে – তাতে কোনো আশ্চর্য নেই।

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে ॥ ২০ ॥
 তোমার কৃপায় জগতের সব কঠিন কাজ সহজ হয়।

রাম দুয়ারে তুম রখবারে ।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ ২১ ॥
 তুমি রামের দরজার রক্ষক – অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারে না।

সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা ॥ ২২ ॥
 তোমার শরণে গেলে সকল সুখ মেলে – তুমি রক্ষা করলে কারো কোনো ভয় নেই।

আপন তেজ সম্হারো আপৈ ।
তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥ ২৩ ॥
 তুমি নিজের তেজ নিজেই সংযত করো, শত্রুরা তোমার গর্জনে কাঁপে।

ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ ॥ ২৪ ॥
 তোমার নাম শুনলেই ভূত-পিশাচরা পালায়।

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা ।
জপত নিরন্তর হনুমত বীরা ॥ ২৫ ॥
 হনুমানজির নাম জপ করলে রোগ-পীড়া দূর হয়।

সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ॥ ২৬ ॥
 মনে, বাক্যে, কর্মে তোমার স্মরণ করলে সকল সংকট থেকে মুক্তি মেলে।

সব পর রাম তপস্বী রাজা ।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥ ২৭ ॥
 রাম হলেন তপস্বী রাজা – তাঁর সব কাজ তুমিই সমাধা করো।

ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ ।
সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ ২৮ ॥
 যে মন দিয়ে তোমার আরাধনা করে, সে অমিত জীবনফল পায়।

চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা ।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥ ২৯ ॥
 চার যুগে তোমার মাহাত্ম্য ছড়িয়ে আছে – তুমি জগতকে আলোকিত করো।

সাধু সন্ত কে তুম রখবারে ।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥ ৩০ ॥
 তুমি সাধুদের রক্ষা করো, অসুরদের বিনাশ করো – রামের প্রিয় তুমি।

অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা ।
অস বর দীন্ জানকী মাতা ॥ ৩১ ॥
 তুমি আটটি সিদ্ধি ও নয়টি ধনের দাতা – এমন বর জানকী মা তোমাকে দিয়েছেন।

রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা ।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ ৩২ ॥
 তোমার কাছে রামের নাম এক রাসায়ন, তুমি সদা রঘুপতির দাস।

তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ ৩৩ ॥
 তোমার ভজন করলে রামের দর্শন হয়, বহু জন্মের দুঃখ মুছে যায়।

অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী ।
জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী ॥ ৩৪ ॥
 মৃত্যুর পরে রামের লোক লাভ হয়, যেখানে কেবল হরি-ভক্তরাই জন্ম নেন।

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে ।
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে ॥ ৩৫ ॥
 অন্য দেবতার স্মরণে মন না রেখে, শুধু হনুমানেই সকল সুখ পাওয়া যায়।

সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা ।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥ ৩৬ ॥
 যে হনুমানজিকে স্মরণ করে, তার সব দুঃখ ও কষ্ট দূর হয়।

জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী ।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥ ৩৭ ॥
 জয় হনুমান গোসাঁই! গুরুদেবের মতো কৃপা করো।

যো শত বার পাঠ কর কোয়ী ।
ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী ॥ ৩৮ ॥
 যে শতবার এই পাঠ করে, তার বন্ধন মুক্ত হয় ও সুখ লাভ করে।

জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা ।
হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥ ৩৯ ॥
 যে এই হনুমান চালীসা পাঠ করে, সে শিব-পার্বতীর মতো সিদ্ধি পায়।

তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ 40 ॥
 তুলসীদাস চিরকাল হরির দাস – হে প্রভু, আমার হৃদয়ে অধিষ্ঠান করো।

শেষ দোহা

পবন তনয় সংকট হরন, মঙ্গল মূরতি রূপ।
রাম লখন সীতা সহ, হৃদয় বসহু সুর ভূপ॥
 হে পবনপুত্র, সংকট হরণকারী, মঙ্গলের মূর্তি – রাম, লক্ষ্মণ ও সীতাসহ আমার হৃদয়ে অধিষ্ঠান করো।

জয় শ্রী রাম 



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিষ্ণু এর দশ অবতার সংক্ষেপে বর্ণনা

ভীষ্ম দেবের পূর্ণ জীবনী

তুলসী দেবীর আত্মজীবনী (কাল্পনিক আকারে)