একাদশী সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা
একাদশী কী?
একাদশী শব্দটির অর্থ হলো "একাদশ" অর্থাৎ চন্দ্র মাসের ১১তম তিথি। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি মাসে দুটি একাদশী হয়—একটি শুক্লপক্ষের এবং একটি কৃষ্ণপক্ষের।
একাদশীর উৎপত্তি (উৎপত্তি কাহিনী)
একাদশীর উৎপত্তি সম্পর্কে একটি প্রাচীন কাহিনী "পদ্ম পুরাণ" ও "ভবিষ্য পুরাণে" পাওয়া যায়।
উৎপত্তি কাহিনী:
প্রাচীনকালে মুর দানব নামে এক অসুর ছিল, যে স্বর্গ, মর্ত্য এবং পাতাল দখল করতে চেয়েছিল। দেবতারা পরাজিত হয়ে বিষ্ণু ভগবানের শরণাপন্ন হন। ভগবান বিষ্ণু মুর দানবকে বধ করতে গেলে, একসময় বিশ্রাম নিতে একটি গুহায় প্রবেশ করেন। তখন মুর দানব তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রমণ করতে আসে।
সেই সময় ভগবানের দেহ থেকে এক উজ্জ্বল রমণী আবির্ভূত হন, যিনি মুর দানবকে ধ্বংস করেন। যখন ভগবান বিষ্ণু জেগে ওঠেন এবং সব কিছু জানতে পারেন, তখন তিনি সেই মহাশক্তিকে আশীর্বাদ করে বলেন:
"তুমি আমার শক্তির এক অংশ, আজ থেকে তোমার নাম হবে একাদশী। যে ব্যক্তি এই দিনে উপবাস পালন করবে, সে পাপমুক্ত হবে এবং আমার ধামে যাবে।"
কেন একাদশী পালন করা হয়?
-
শাস্ত্র মতে একাদশী ব্রত পালন করলে মন, শরীর ও আত্মা পবিত্র হয়।
-
এই দিন উপবাস ও ভগবানের নামস্মরণ করলে পাপক্ষয় হয় এবং মুক্তি লাভ হয়।
-
একাদশী উপবাস মানে কেবল খাবার না খাওয়া নয়, এটা ইন্দ্রিয়সংযম ও আত্মশুদ্ধির এক পবিত্র উপায়।
একাদশী পালন কীভাবে করবেন?
যা করা উচিত:
-
ব্রহ্মমুহূর্তে উঠে স্নান করে পবিত্র পোশাক পরা।
-
বিষ্ণু/কৃষ্ণ নামের জপ ও পাঠ।
-
ভগবানের প্রতিমা বা ছবিতে পূজা, প্রদীপ, ধূপ, ও ফল নিবেদন।
-
নিরামিষ খাবার খাওয়া (অনেকে সম্পূর্ণ উপবাস রাখেন)।
-
রাতে জাগরণ (জাগরণে মহাফল বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে)।
যা করা উচিত নয়:
-
চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, মাংস, মদ, তেল, বা তিল খাওয়া উচিত নয়।
-
অহিংসা পালন করা উচিত – কারো প্রতি রাগ, হিংসা বা কটু কথা বলা নিষেধ।
কত রকমের একাদশী আছে?
এক বছরে সাধারণত ২৪টি একাদশী হয়। তবে অধিমাস (পুরুষোত্তম মাস) এলে হয় ২৬টি। কিছু বিখ্যাত একাদশী:
-
নির্জলা একাদশী – সব একাদশীর ফল একসঙ্গে লাভ হয়।
-
পাপমোচনী একাদশী
-
শয়নী একাদশী – বিষ্ণু ভগবান যোগনিদ্রায় যান।
-
পরম একাদশী
-
মোহিনী একাদশী
-
উৎপন্না একাদশী – প্রথম একাদশী ব্রতের সূচনা দিন।
-
ভৈমী একাদশী
-
কামদা একাদশী
-
দেবোত্থান একাদশী – বিষ্ণু জাগেন, শুভ বিবাহের শুরু।
একাদশী করার উপকারিতা
-
পাপ থেকে মুক্তি
-
আত্মশুদ্ধি ও ঈশ্বরচিন্তায় মন স্থিরতা
-
দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য লাভ
-
মৃত্যুর পর মোক্ষ বা বৈকুণ্ঠ গমন
মন্তব্যসমূহ