কূর্ম অবতার

 

কূর্ম অবতার (Kurma Avatar) – দ্বিতীয় অবতার



যুগ: সত্যযুগ
রূপ: বিশাল কচ্ছপ
লক্ষ্য: সমুদ্র মন্থনকে সফল করা এবং অমৃত প্রাপ্তি

পুরাণ অনুযায়ী কাহিনী:

একসময় দেবতারা তাদের শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তখন ভগবান বিষ্ণু তাদের বলেন:

“অমৃত পেতে হলে অসুরদের সঙ্গে মিলে সমুদ্র মন্থন করতে হবে।”

দেবতা ও অসুররা মন্দর পর্বতকে মন্থনের দণ্ডরূপে এবং নাগরাজ বাসুকিকে দড়িরূপে ব্যবহার করে সমুদ্র মন্থন শুরু করেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় – বিশাল মন্দর পর্বতটি সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকে।

তখন ভগবান বিষ্ণু কূর্মরূপে (বিশাল কচ্ছপ) আবির্ভূত হন এবং সেই পর্বতকে নিজের পিঠে ধরে রাখেন, যাতে মন্থন নির্বিঘ্নে চলতে পারে।

সমুদ্র মন্থনে যা যা উৎপন্ন হয়:

  • হালাহল বিষ (যা শিব পান করেন)

  • লক্ষ্মী দেবী (যিনি পরে বিষ্ণুর consort হন)

  • আইরাবত হাতি, কৌস্তুভ রত্ন

  • শেষমেশ ধন্বন্তরি আবির্ভূত হন, হাতে অমৃত কুম্ভ

দেবতা ও অসুরদের মধ্যে অমৃত বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তখন বিষ্ণু মোহিনী রূপে এসে দেবতাদের অমৃত দেন এবং অসুরদের বঞ্চিত করেন।

কূর্ম অবতারের গুরুত্ব:

  • এই অবতার বলছে – ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সহযোগিতাধৈর্য প্রয়োজন

  • এই অবতারে বিশ্বরক্ষার কাজ করেন এক নিরবভাবে, নিজের পিঠে সব ভার বহন করে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিষ্ণু এর দশ অবতার সংক্ষেপে বর্ণনা

ভীষ্ম দেবের পূর্ণ জীবনী

তুলসী দেবীর আত্মজীবনী (কাল্পনিক আকারে)