নরসিংহ অবতার: এক অলৌকিক রূপে রক্ষার স্বল্প গল্প
নরসিংহ অবতার — হিন্দু ধর্মের দশটি দশাবতার মধ্যে চতুর্থ অবতার। এই অবতারে ভগবান বিষ্ণু অর্ধসিংহ ও অর্ধমানব রূপে আবির্ভূত হন। এখানে নরসিংহ অবতারের পূর্ণ গল্পটি বাংলায় বলা হলো:
অনেক দিন আগে, একজন অসুর রাজা ছিলেন — নাম হিরণ্যকশিপু। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভগবান বিষ্ণুর বিরুদ্ধাচরণকারী। তার ভাই হিরণ্যাক্ষকে বিষ্ণু মেরেছিলেন বরাহ অবতারে। সেই থেকেই হিরণ্যকশিপু বিষ্ণুর ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইছিলেন।
তাই তিনি কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মার থেকে এক বিশেষ বর লাভ করেন —
“দিনে না রাতে, ভিতরে না বাইরে, মানুষ না পশু, কোনো অস্ত্র দ্বারা আমি মারা যাব না।”
এই বর পাওয়ার পর সে নিজেকে অমর ভেবে ঈশ্বরের স্থানে নিজেকে বসাতে শুরু করে। সে বলত, "আমি ঈশ্বর। আমাকেই পূজা করো।"
কিন্তু তার নিজের পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন একান্ত ভক্ত ভগবান বিষ্ণুর। প্রহ্লাদ প্রতিদিন বিষ্ণুর নাম জপ করতেন। বাবার নিষেধ সত্ত্বেও তিনি ভক্তি থেকে বিরত হননি।
হিরণ্যকশিপু প্রচণ্ড রাগে তাকে অনেকভাবে শাস্তি দেয় —
আগুনে ফেলে, পাহাড় থেকে ঠেলে দেয়, হাতির সামনে ফেলে দেয়। কিন্তু প্রহ্লাদ কোনো কিছুর দ্বারা কষ্ট পায় না, বরং সবসময় “নরায়ণ, নরায়ণ” জপ করতেই থাকেন।
শেষমেশ হিরণ্যকশিপু একদিন প্রহ্লাদকে জিজ্ঞেস করল:
"তোর বিষ্ণু কোথায়?"
প্রহ্লাদ উত্তর দিল: "ভগবান সর্বত্র আছেন।"
হাসতে হাসতে হিরণ্যকশিপু একটি স্তম্ভ দেখিয়ে বলল:
"এই খুঁটিতেও আছে?"
প্রহ্লাদ বলল: "হ্যাঁ, এখানেও।"
রেগে গিয়ে হিরণ্যকশিপু সেই স্তম্ভে ঘুষি মারতেই, হঠাৎ বিকট শব্দে সেই খুঁটি ফেটে গেল। সেখান থেকে আবির্ভূত হলেন এক অদ্ভুত রূপ — অর্ধসিংহ, অর্ধমানব — নরসিংহ।
দিন না, রাত না — সেই সময় ছিল সন্ধ্যা।
ভিতরে না, বাইরে না — তিনি ছিলেন প্রাসাদের দেউড়িতে।
মানুষ না, পশু না — তিনি অর্ধমানব-অর্ধসিংহ।
অস্ত্র নয় — তিনি হিরণ্যকশিপুকে ধরলেন নিজের নখ দিয়ে এবং তাকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন।
এইভাবে ভগবান বিষ্ণু তার নরসিংহ অবতারে এসে তার ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন এবং অন্যায়ের বিনাশ করেন।
অসমাপ্ত ....

মন্তব্যসমূহ